সুপ্রিম কোর্টে মমতার লড়াইকে স্বীকৃতি, প্রশংসায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার রাজনৈতিক মহলে চর্চা বাড়াল সিপিএমের

কলকাতা:
নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনি লড়াই ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হল। এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি জানালেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা ও ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি করেছে।

মানিক সরকার মনে করছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বক্তব্য তুলে ধরা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, “এই ধরনের উদ্যোগকে হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। আইনি পথে প্রশ্ন তোলা এবং যুক্তি পেশ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ।” যদিও তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে আরও আগে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারত।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম নেতৃত্ব যেখানে প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনায় মুখর, সেখানে দলের বাইরে থেকে হলেও মানিক সরকারের এই ভিন্ন সুর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অনেকের মতে, বাম শিবিরের একজন অভিজ্ঞ নেতার মুখে এই স্বীকৃতি রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির ভেতরের মতপার্থক্যকেই সামনে এনে দিল।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের অভিযোগ, এই উদ্যোগের ফলে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও একাধিকবার দাবি করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নেই এই আইনি লড়াই।

মানিক সরকার জানান, এখন নজর থাকবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের দিকে। আদালত কী অবস্থান নেয়, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে বলে মত তাঁর। একইসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি আহ্বান জানান, এই ধরনের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রশ্নে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিষয়টিকে দেখা উচিত।

এদিকে মানিক সরকারের বক্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই বামফ্রন্টের রাজ্য নেতৃত্বকে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে অভিজ্ঞ নেতাদের মন্তব্যই যথেষ্ট প্রমাণ।

সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টে চলমান এই মামলা শুধু আইনি লড়াই নয়, বরং রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণ ও বক্তব্যের ভিন্নতা তৈরি করছে—যার প্রভাব আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these