মুর্শিদাবাদে মাদক মামলায় আত্মীয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, তীব্র প্রতিক্রিয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের

মুর্শিদাবাদ: রাজ্যে মাদক বিরোধী অভিযানে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পুলিশ। মুর্শিদাবাদের লালগোলা এলাকায় একটি পুরনো মাদক মামলার সূত্র ধরে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা, কারণ বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির মালিকানা যুক্ত রয়েছে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের একটি এনডিপিএস (NDPS) আইনের মামলার তদন্তে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় লালগোলার নলদহরি এলাকায় মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এক ব্যক্তিকে। তদন্ত এগোতেই পুলিশ জানতে পারে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এই মামলার তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্ত পরিবারের প্রায় ১৭টি সম্পত্তি চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জমি, বাড়ি, দোকানঘর ও অন্যান্য সম্পত্তি। পুলিশের দাবি, এই সম্পত্তিগুলি মাদক ব্যবসা থেকে উপার্জিত টাকায় কেনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। মোট সম্পত্তির আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ভারতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ঘটনায় তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ নেই। বিধায়কের দাবি, তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির ব্যবসা সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং নিয়মিত কর প্রদান করা হয়।

হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই তাঁকে হেয় করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আইনের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে। কেউ দোষী হলে আইন তার ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু অহেতুক পরিবারকে জড়িয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

এদিকে পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই মামলার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের সম্পর্ক নেই। তদন্তের ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তদন্ত আরও বিস্তৃত হবে।

এই ঘটনা ঘিরে জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরেই শুরু হয়েছে পাল্টা তরজা। প্রশাসনের দাবি, রাজ্যে মাদক কারবার রুখতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these