নয়াদিল্লি: লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই ইস্যুতে বিরোধী শিবিরের অভিন্ন অবস্থান দেখা গেল না। কংগ্রেসসহ একাধিক বিরোধী দল অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে সই করলেও তৃণমূল কংগ্রেস আপাতত সেই পথে হাঁটেনি। ফলে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
অনাস্থা প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট
বাজেট অধিবেশনের মাঝেই বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তোলে যে, লোকসভা পরিচালনায় স্পিকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না। বিরোধীদের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, একাধিক সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং বিরোধী নেতাদের বক্তব্য পেশ করার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের কয়েকটি শরিক দল স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেয়।
সূত্রের খবর, ১০০-র বেশি বিরোধী সাংসদের স্বাক্ষরসহ প্রস্তাবের নোটিস জমা পড়েছে। এই পদক্ষেপ সংসদীয় ইতিহাসে বিরল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তৃণমূলের ভিন্ন অবস্থান
যদিও ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক তৃণমূল কংগ্রেস, তারা এখনও অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে সই করেনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, সরাসরি অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে স্পিকারকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
তৃণমূলের দাবি, সংসদীয় প্রথা মেনে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষের বিষয়গুলি স্পিকারের সামনে তুলে ধরা হোক। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি কোনও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হবে। দলের এই অবস্থানকে কেউ কেউ ‘কৌশলী’ বলছেন, আবার কেউ দেখছেন ‘সতর্ক রাজনৈতিক দূরত্ব’ হিসেবে।
বিরোধী জোটে মতভেদ?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরে সূক্ষ্ম মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি প্রভৃতি দল সরাসরি অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও তৃণমূল অপেক্ষাকৃত সংযত অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল চাইছে সংসদীয় শালীনতা বজায় রেখে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়ও তুলে ধরতে আগ্রহী তারা।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
শাসক দলের পক্ষ থেকে বিরোধীদের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তাদের দাবি, সংসদে নিয়ম মেনেই অধিবেশন চলছে এবং বিরোধীরা অযথা ইস্যু তৈরি করছে। তবে স্পিকার এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেননি।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব অত্যন্ত বিরল ঘটনা। সংসদীয় গণতন্ত্রে স্পিকার পদটি নিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এই ইস্যু শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক উত্তেজনাই নয়, বরং বৃহত্তর সংসদীয় চর্চার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
তৃণমূলের অবস্থান ভবিষ্যতে বিরোধী জোটের ঐক্যে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে স্পিকারের তরফে কোনও পদক্ষেপ আসে কিনা, তার দিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।