পূর্ব বর্ধমান: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মুখে এক পরীক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ এলাকায়। ঘটনায় এক স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতার নাম জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে, শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত।
অভিযোগ, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওই ছাত্র। বুধবার সকালে পারিবারিক ব্যবসার দোকানে বাবাকে সাহায্য করছিলেন তিনি। সেই সময় কয়েকজন যুবক সেখানে হাজির হয়। পরিবারের দাবি, তাদের নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা। আচমকাই বচসা শুরু হয় এবং তা দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ, পরীক্ষার্থীকে মারধর করা হয়, এমনকি টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
পরীক্ষার্থীর বাবা থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন, ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে এবং তাঁকেও হেনস্তা করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের দাবি, উচ্চমাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ঠিক আগে এই ঘটনা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে ছাত্রকে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। প্রতিবেশীদের একাংশ জানান, হঠাৎ চিৎকার শুনে তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। যদিও ঘটনার সঠিক কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কেউ কেউ পারিবারিক বিবাদের কথা বলছেন, আবার পরিবারের অভিযোগ—এটি পরিকল্পিত হামলা।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেই তৃণমূল নেতা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিবাদ, রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে। তিনি বলেন, “আমার নামে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তদন্তেই সত্য প্রকাশ পাবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দল গিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার আগে এমন ঘটনায় ছাত্রের নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, পরীক্ষার সময় ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ও শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। হামলার অভিযোগ কতটা সত্য, আর তার নেপথ্যে কী কারণ—সেই উত্তর খুঁজছে প্রশাসন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রাক্কালে এই ঘটনায় উদ্বেগে পড়েছে পরীক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।