উচ্চমাধ্যমিকের পরেই অচেতন ছাত্রী, স্কুল গেটেই মা ও শাশুড়ির টানাহেঁচড়া! কোথায় নিয়ে যাওয়া হল?

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তার মধ্যেই পরীক্ষা চলছে। এরই মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরায় সামনে এল এক উদ্বেগজনক ঘটনা। পরীক্ষা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বেরোনোর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এক পরীক্ষার্থী। অভিযোগ, সেই অবস্থাতেই তাঁর মা ও শাশুড়ি তাঁকে টানাহেঁচড়া করে বাড়ি নিয়ে যান। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শেষ করে কেন্দ্র থেকে বেরোনোর পরই ওই ছাত্রী মাথা ঘোরা ও তীব্র দুর্বলতার কথা জানান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে বসিয়ে জল খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরামর্শও দেন।

তবে অভিযোগ, সেই সময়ই ছাত্রীর মা ও শাশুড়ি সেখানে পৌঁছে যান এবং চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা না করে তাঁকে ধরে টানতে টানতে কেন্দ্র চত্বরের বাইরে নিয়ে যেতে থাকেন। ঘটনাটি দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হন। কেউ কেউ আপত্তি জানালেও পরিবার তাঁদের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা খুব একটা স্থিতিশীল ছিল না। তাই তাঁকে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়াই উচিত ছিল। যদিও পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, মেয়েটির আগে থেকেই শারীরিক সমস্যা ছিল এবং তাঁরা দ্রুত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন বলেই এই সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার একটি ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে কি না। বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিনে পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে থাকে। ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি বলেই মত অভিভাবকদের একাংশের।

স্কুল ও প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে কেন্দ্রের বাইরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

বর্তমানে ওই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই পরিবার সূত্রে দাবি। তিনি বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হবে। তবুও ঘটনাটি নতুন করে মনে করিয়ে দিল, পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষার চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব ও শারীরিক সুস্থতার সমন্বয় না থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these