ভালবাসার দিনে সিঞ্চলে তুষারপাত, দার্জিলিংয়ে রোম্যান্টিক আবহে ভেসে গেল পাহাড়

ভালেন্টাইনস ডে মানেই প্রেমের উদযাপন। আর সেই বিশেষ দিনে যদি পাহাড়ে নামে সাদা তুষারের আস্তরণ, তাহলে আবহ যে আরও রোম্যান্টিক হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। এ বছর ঠিক তেমনই এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী থাকল দার্জিলিং জেলার সিঞ্চল এলাকা। ভালবাসা দিবসের সকালেই সিঞ্চলে শুরু হয় তুষারপাত, যা ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘলা। ঠান্ডার তীব্রতাও ছিল বেশ খানিকটা বেশি। তারই মাঝে হালকা করে ঝরে পড়তে শুরু করে সাদা তুষারকণা। ধীরে ধীরে সিঞ্চলের পাহাড়ি রাস্তা, গাছপালা, ঘাসে ঢাকা ঢাল—সবই ঢেকে যায় সাদা চাদরে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা যেন রূপকথার দৃশ্যে পরিণত হয়।

সিঞ্চল মূলত দার্জিলিং শহর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় ভিউ পয়েন্ট ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা। শীতকালে এখানে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে যায়, তবে ভালবাসা দিবসের দিন তুষারপাত অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত চমক। স্থানীয়দের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে মাঝে মধ্যে হালকা তুষারপাত হলেও নির্দিষ্ট কোনও দিনে এমনভাবে বরফ পড়া খুব একটা দেখা যায় না।

পর্যটকদের একাংশ জানান, ভালেন্টাইনস ডে-তে পাহাড়ে বেড়াতে এসে তুষারপাতের সাক্ষী হওয়া সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ সঙ্গীর হাত ধরে বরফে ঢাকা পথে হাঁটলেন, কেউ আবার মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করলেন সেই সাদা মুহূর্ত। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সিঞ্চলের তুষারাবৃত দৃশ্যের একাধিক ছবি ও ভিডিও।

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরাও এই ঘটনায় আশাবাদী। তাঁদের মতে, এই তুষারপাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে আগামী কয়েকদিনে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে। শীতের শেষে এমন আবহাওয়া অনেককেই নতুন করে পাহাড়ে টানবে।

আবহাওয়া দফতরের সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত ও উচ্চভূমিতে তুষারপাতের সম্ভাবনা ছিল। সেই পূর্বাভাসই বাস্তবে মিলেছে সিঞ্চলে। ফলে ভালবাসা দিবসে প্রকৃতিই যেন প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য সাজিয়ে দিল সাদা উপহার।

সব মিলিয়ে, দার্জিলিংয়ের সিঞ্চলে ভালেন্টাইনস ডে-র তুষারপাত এ বছরের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রইল। প্রেমের দিনে প্রকৃতির এই বিশেষ উপস্থিতি যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল—ভালবাসা শুধু মানুষের মধ্যে নয়, প্রকৃতির মধ্যেও ছড়িয়ে আছে সমানভাবে।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these