দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। দলের নেতা Kaiser Ahmed সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন বিধায়ক Saokat Molla-র বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, তাঁকে খুনের চক্রান্ত করা হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
কাইজার আহমেদ সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ের সামনে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শওকত মোল্লার অনুগামীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, খুনের ছক কষা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনায় তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙড়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খবর মিলছিল। স্থানীয় স্তরে নেতৃত্বের প্রশ্ন, সংগঠন পরিচালনা এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ চরমে ওঠে। কাইজার আহমেদের অভিযোগ, এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থির করে তোলা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তাঁর দাবি।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন Saokat Molla। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আনা হবে এবং দলীয় স্তরে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, তা নেওয়া হবে। প্রকাশ্যে কোনও সংঘাত চান না বলেও দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ভেতরে চাপা অসন্তোষ সামনে চলে আসছে। ভাঙড় এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সংঘাতের জন্য সংবেদনশীল। অতীতেও একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এই অঞ্চল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না ঘটে, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও পদক্ষেপের খবর মেলেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসা তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষত যখন নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, তখন এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সংগঠনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।
ভাঙড়ের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলবে। আপাতত নজর প্রশাসনিক তদন্ত ও দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই রাজনৈতিক অস্থিরতা আগামী দিনে আরও বড় আকার নেবে কি না, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।