৭০ হাজার কোটি টাকার রেস্তোরাঁ ট্যাক্স কেলেঙ্কারি ফাঁস, দেশজুড়ে চাঞ্চল্য

দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পে নজিরবিহীন ট্যাক্স ফাঁকির ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সর্বত্র। আয়কর দফতরের তদন্তে উঠে এসেছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার ট্যাক্স কেলেঙ্কারি, যা গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে সংগঠিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার উপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কীভাবে সামনে এল কেলেঙ্কারি?

তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি শহরে রুটিন তল্লাশি চালানোর সময় বিলিং সংক্রান্ত অসঙ্গতি নজরে আসে। গ্রাহক সংখ্যা ও ঘোষিত আয়ের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য দেখা যায়। এরপর আয়কর দফতর দেশজুড়ে একাধিক রেস্তোরাঁর ডিজিটাল বিলিং ডেটা বিশ্লেষণ শুরু করে।

প্রায় ৬০ টেরাবাইটেরও বেশি তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা দেখতে পান, বহু রেস্তোরাঁয় ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্রির অঙ্ক কম দেখানো হয়েছে। অভিযোগ, বিলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিক্রির তথ্য মুছে ফেলা, আংশিক রেকর্ড রাখা কিংবা নগদ লেনদেন গোপন রাখার মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

কীভাবে করা হত ট্যাক্স ফাঁকি?

তদন্তে উঠে এসেছে কয়েকটি সাধারণ পদ্ধতি—

নগদ বিক্রির বিল পরে সফটওয়্যার থেকে ডিলিট করা

নির্দিষ্ট সময়ের সম্পূর্ণ বিক্রির তথ্য মুছে ফেলা

প্রকৃত টার্নওভারের তুলনায় কম অঙ্ক দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা

ভুয়ো হিসাব তৈরি করে লাভ কম দেখানো

এইভাবে বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।

কোন কোন রাজ্যে বেশি অনিয়ম?

প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে এই অনিয়মের মাত্রা তুলনামূলক বেশি। তবে তদন্তকারীদের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশজুড়ে বহু রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে তথ্য যাচাই চলছে।

প্রযুক্তির সাহায্যে বড় সাফল্য

আয়কর দফতর আধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করেছে। বিলিং ডেটা, প্যান নম্বর, জিএসটি তথ্য ও ব্যাংক লেনদেন মিলিয়ে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন চিহ্নিত করা হয়। প্রযুক্তির ব্যবহারে এত বড় অঙ্কের ট্যাক্স ফাঁকি চিহ্নিত হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামনে কী পদক্ষেপ?

তদন্ত এখনও চলছে। সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ মালিকদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। আয়কর বকেয়া আদায়, জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলাও দায়ের হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা দেশের কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিল যে ডিজিটাল নজরদারি ও প্রযুক্তির সাহায্যে আর্থিক অনিয়ম দীর্ঘদিন গোপন রাখা কঠিন।

দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পে এই কেলেঙ্কারি নতুন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট সামনে এলে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these