শীত বিদায় নেওয়ার আগেই গরমের পূর্বাভাস ঘিরে চর্চা শুরু হয়ে গেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, চলতি বছরে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে তা গত কয়েক বছরের মতো চরম বা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছবে—এমন সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মার্চের শেষ দিক থেকেই তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করবে। এপ্রিল ও মে মাসে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গড়ের তুলনায় ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি থাকতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী তীব্র তাপপ্রবাহ বা অস্বাভাবিক মাত্রার লু পরিস্থিতির সম্ভাবনা আপাতত কম বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
কেন বাড়তে পারে তাপমাত্রা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টিপাতের ঘাটতি, শুষ্ক আবহাওয়া এবং পশ্চিমা ঝঞ্ঝার প্রভাব কম থাকলে গরম দ্রুত বাড়তে পারে। কিছু অঞ্চলে মাটির আর্দ্রতা কম থাকায় দিনের বেলা তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার সামগ্রিক প্রভাব এখনও অনুকূল থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন কোন অঞ্চলে প্রভাব বেশি?
উত্তর-পশ্চিম, মধ্য এবং কিছু পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শহরাঞ্চলে ‘হিট আইল্যান্ড ইফেক্ট’-এর কারণে তাপমাত্রা গ্রামাঞ্চলের তুলনায় কিছুটা বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে দক্ষিণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝেমধ্যে বজ্রবৃষ্টি বা আর্দ্রতার প্রভাবে তাপমাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক থাকতে পারে।
তাপপ্রবাহের আশঙ্কা কতটা?
আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য, বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকদিনের তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদি বা চরম আকার নেবে—এমন পূর্বাভাস আপাতত নেই। অর্থাৎ, গরম বেশি হলেও তা অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। তবে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল চরিত্রের কারণে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা
চিকিৎসকরা আগাম সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত জলপান, হালকা পোশাক এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালগুলিকে সতর্ক রাখা, পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এ বছর গরম স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে, তবে চরম দাবদাহের আশঙ্কা আপাতত নেই—এমনটাই ইঙ্গিত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পূর্বাভাস জানানো হবে।