কৃষকবন্ধু উপভোক্তারা কি যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন? বিভ্রান্তির মাঝে সামনে আসছে একাধিক দাবি, কী জানা যাচ্ছে

কলকাতা: রাজ্যে সদ্য চালু হওয়া ‘যুব সাথী’ প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যারা ইতিমধ্যেই ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা কি ‘যুব সাথী’ প্রকল্পেও আবেদন করতে পারবেন? সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে এই নিয়ে একাধিক দাবি সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

কী নিয়ে বিভ্রান্তি?

গত কয়েকদিনে বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তারাও বছরে যুব সাথীর আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। কোথাও বলা হচ্ছে, বছরে কৃষকবন্ধু থেকে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও যুব সাথী প্রকল্পে আলাদা করে ১৮ হাজার টাকা বার্ষিক সহায়তা মিলতে পারে। আবার কিছু সূত্রে দাবি, দুটি প্রকল্প একসঙ্গে পাওয়া যাবে না।

এই পরস্পরবিরোধী তথ্যই বিভ্রান্তির মূল কারণ।

কৃষকবন্ধু ও যুব সাথী—দুটি আলাদা প্রকল্প

রাজ্য সরকারের কৃষকবন্ধু প্রকল্প মূলত কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য চালু হয়েছে। চাষের সহায়তা হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্কের বার্ষিক অনুদান এবং মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

অন্যদিকে যুব সাথী প্রকল্প শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে চালু হয়েছে। নির্দিষ্ট বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বেকার থাকার শর্ত পূরণ করলেই আবেদন করা যায়। মাসিক ভাতা বা বার্ষিক সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের আগে আর্থিক স্বস্তি দেওয়াই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

তাহলে কি দুই প্রকল্প একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব?

সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ঘোষণা নেই যে কৃষকবন্ধু উপভোক্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুব সাথীর সুবিধা পাবেন। একইভাবে এমন বিজ্ঞপ্তিও নেই যে তাঁরা সম্পূর্ণভাবে অযোগ্য। তবে আবেদনপত্রে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেই তথ্য জানাতে বলা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে, যদি আবেদনকারী ইতিমধ্যেই অন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধাভোগী হন, তাহলে যাচাই প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়তে পারে। আবার অন্য একটি মত বলছে, কৃষক পরিবারের বেকার যুব সদস্য আলাদা ব্যক্তি হিসেবে আবেদন করতে পারেন, যদি তিনি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন।

কী বলছেন প্রশাসনিক মহল?

প্রশাসনের তরফে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও তথ্য গোপন করা হলে আবেদন বাতিল হতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদন নির্ভর করবে নথি যাচাই এবং সরকারি গাইডলাইনের উপর।

সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা

এই ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু ‘বড় আপডেট’, ‘ব্রেকিং নিউজ’ শিরোনামের পোস্ট ঘুরছে। তবে সব তথ্যই যে যাচাই করা, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত খবরের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অফিসিয়াল পোর্টাল, সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের উপর নির্ভর করাই শ্রেয়।

আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ

আবেদন করার আগে অফিসিয়াল নির্দেশিকা পড়ুন।

ফর্মে অন্য প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সঠিকভাবে উল্লেখ করুন।

প্রয়োজনে স্থানীয় ব্লক অফিস বা সরকারি ক্যাম্পে যোগাযোগ করুন।

ভুয়ো খবর বা অযাচিত গুজবে কান দেবেন না।

উপসংহার

কৃষকবন্ধু উপভোক্তারা যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নির্ভর করছে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, ব্যক্তি-ভিত্তিক আবেদন এবং সরকারি যাচাই প্রক্রিয়ার উপর। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি ঘোষণার অপেক্ষাই একমাত্র পথ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these