মাত্র ২ টাকার হাঁড়ি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এক সাধারণ কুমোর। কিন্তু হঠাৎই তাঁর ঠিকানায় এসে পৌঁছল ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার জিএসটি (GST) নোটিস! ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর প্রদেশ-এ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর ধরে মাটির হাঁড়ি, কলস ও ছোটখাটো পাত্র বানিয়ে স্থানীয় হাটে বিক্রি করেন ওই কুমোর। প্রতিটি হাঁড়ির দাম মাত্র ২ টাকা থেকে শুরু। দৈনিক আয়ও খুব সামান্য। হঠাৎ করেই তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে বিপুল অঙ্কের পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) বকেয়া দেখানো হয়েছে এবং সেই বাবদ ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার নোটিস পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন ওই কুমোর ও তাঁর পরিবার। তাঁদের দাবি, এত বিপুল অঙ্কের ব্যবসা করার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁরা কখনও জিএসটি রেজিস্ট্রেশনও করেননি। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে, কোনও প্রতারণা চক্র তাঁর প্যান বা আধার তথ্য ব্যবহার করে ভুয়ো সংস্থা খুলে বিপুল লেনদেন দেখিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত দরিদ্র। ছোট একটি কুঁড়েঘরে থাকেন এবং সারা দিন পরিশ্রম করে অল্প উপার্জন করেন। এত বড় অঙ্কের কর ফাঁকির অভিযোগ তাঁর ক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে নথিপত্র যাচাই করে দেখা হচ্ছে, আদৌ কোনও ভুয়ো জিএসটি নম্বর বা নকল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে ভুয়ো সংস্থা খুলে জাল বিল ও লেনদেন দেখানোর ঘটনা বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ অজান্তেই বিপাকে পড়ছেন। তাই সময়মতো নথি যাচাই ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দরিদ্র কুমোরের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হোক এবং তাঁকে এই অযৌক্তিক দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বহু মানুষ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন।
✍️ প্রতিবেদন: সে নিউজ বাংলা ডেস্ক