নিজস্ব সংবাদদাতা, লখনউ: উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ-এ চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আশিয়ানা থানা এলাকায় এক যুবকের বিরুদ্ধে নিজের বাবাকে গুলি করে খুন করার পর দেহ টুকরো টুকরো করে নীল রঙের ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তি প্রায় ৫০ বছর বয়সি এক ব্যবসায়ী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতেই তাঁর সঙ্গে ছেলের প্রায়শই বচসা লেগে থাকত। বিশেষ করে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সেই পারিবারিক অশান্তিই ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে গড়ায়।
অভিযোগ, ঘটনার দিন ভোররাতে দু’জনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া বাধে। সেই সময় বাড়ির লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই বাবার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের ধারণা। এরপর অভিযুক্ত যুবক দেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে তা টুকরো করে ফেলে। দেহাংশের কিছু অংশ একটি বড় নীল ড্রামের মধ্যে ভরে রাখা হয়। মাথার অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রথমে বাবাকে ‘নিখোঁজ’ বলে জানায়। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীদের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতেই বেরিয়ে আসে ড্রামের ভিতরে রাখা দেহাংশ। সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ফরেনসিক দল এসে নমুনা সংগ্রহ করে এবং বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়।
পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। প্রাথমিক জেরায় সে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলেই দাবি তদন্তকারীদের। কী কারণে এই নৃশংস ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক অশান্তি, মানসিক চাপ নাকি অন্য কোনও কারণ— সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত। তাঁদের কথায়, “এত বড় ঘটনা আমাদের এলাকায় কখনও ঘটেনি। ভাবতেও পারছি না, নিজের ছেলে এমন কাজ করতে পারে!”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন ও প্রমাণ লোপাটের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃতদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপ কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক পরামর্শ ব্যবস্থার উপর আরও জোর দেওয়ার দাবি উঠছে।