রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের সম্ভাব্য প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করতে ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে Bharatiya Janata Party (বিজেপি) সূত্রে জানা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রস্তাবিত ‘সঙ্কল্প পত্র’-এ বড়সড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে যুব সমাজের উদ্দেশে।
দলীয় সূত্রের দাবি, ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ২৫,০০০ টাকার একটি ভাতা চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবে খসড়া স্তরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে বলেই জানা গেছে।
বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মতে, রাজ্যে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে এবং কর্মসংস্থানের অভাব যুবসমাজের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। সেই পরিস্থিতিতে সরাসরি আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে যুবকদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে চায় দল। তবে এই ভাতা সম্পূর্ণ নিঃশর্ত হবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। দলীয় মহলের বক্তব্য, সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকতে হতে পারে। অর্থাৎ, দক্ষতা উন্নয়ন বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হতে পারে।
রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই যুবকদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালু রয়েছে। বর্তমানে Banglar Yuva Sathi নামে একটি প্রকল্পে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বেকার যুবকদের মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। সেই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে বিজেপির সম্ভাব্য ২৫,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে উপযুক্ত যাচাই প্রক্রিয়া রাখা হতে পারে। আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা, কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং প্রশিক্ষণে নিয়মিত উপস্থিতি—সবকিছুর ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনার ব্যবস্থাও থাকতে পারে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তারাই সুবিধা পান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে যুব ভোট বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং দক্ষতা উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই মূল লড়াই গড়ে উঠতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে বড় অঙ্কের ভাতার প্রস্তাব নিঃসন্দেহে ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রশ্ন উঠছে। এত বড় অঙ্কের ভাতা বাস্তবায়ন করতে গেলে রাজ্য কোষাগারের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তার জন্য প্রয়োজন বিশদ আর্থিক পরিকল্পনা। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, ক্ষমতায় এলে রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে এবং বিনিয়োগ বাড়িয়ে এই প্রকল্প চালু করা সম্ভব হবে। যদিও বিরোধী শিবিরের মতে, এটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মাত্র, বাস্তবায়ন কঠিন।
এখন দেখার বিষয়, আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সঙ্কল্প পত্র’ প্রকাশের সময় এই প্রস্তাব কতটা স্পষ্ট আকারে সামনে আসে এবং তার শর্তাবলি কী হয়। আপাতত রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা—যুবকদের জন্য বড় অঙ্কের ভাতা কি সত্যিই ২০২৬-এর নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে চলেছে? সময়ই দেবে সেই উত্তর।