তেলেঙ্গানায় মর্মান্তিক ঘটনা, কান্নায় বিরক্ত হয়ে দুই মাসের শিশুকে খুনের অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

হায়দরাবাদ: মানবিকতাকে স্তব্ধ করে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে তেলেঙ্গানা থেকে। মাত্র দুই মাসের এক শিশুকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তারই মায়ের বিরুদ্ধে। শিশুর কান্না সহ্য করতে না পেরে এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার বৌরামপেট এলাকায়, ডান্ডিগল থানার অন্তর্গত একটি নির্মীয়মাণ আবাসনে। অভিযুক্ত দম্পতি মূলত মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। কাজের সূত্রে তারা হায়দরাবাদে এসে ওই নির্মাণস্থলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানেই অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।

অভিযোগ, বুধবার সকালে বাড়ির ভেতরেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, দুই মাসের শিশুটির নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, শিশুটির মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়েছিল এবং হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল। এরপর তাকে আগুনের কাছে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে যান তদন্তকারীরাও।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মা জানিয়েছেন, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে কাঁদছিল। সেই কারণে তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন এবং চরম সিদ্ধান্ত নেন। তবে পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ বা মানসিক অবসাদ কাজ করছিল কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান জন্মের পর কিছু ক্ষেত্রে মায়েরা প্রসব-পরবর্তী মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন। এই দিকটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

ঘটনার সময় শিশুটির বাবা কর্মস্থলে ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ফিরে এসে বিষয়টি জানতে পারেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীদের দাবি, এমন নৃশংস ঘটনা কল্পনাতীত। অনেকেই শিশুর নিরাপত্তা ও পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি সমাজে পারিবারিক চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর শোকস্তব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। মাত্র দুই মাসের একটি প্রাণ এভাবে ঝরে যাওয়ায় মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these