হঠাৎ করেই দুপুরের ব্যস্ত সময়ে কেঁপে উঠল মাটি। কয়েক সেকেন্ডের ভূকম্পনেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায়। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বলে খবর।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ সংলগ্ন অঞ্চলে। ভূকম্পনের মাত্রা মাঝারি হলেও শহর ও শহরতলির বহু মানুষ স্পষ্টভাবে ঝাঁকুনি অনুভব করেন। বহু বহুতল আবাসন ও অফিস চত্বরে কম্পন টের পাওয়া যায়। অনেকেই আতঙ্কে ঘর-বাড়ি ও কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
কয়েক সেকেন্ডের কম্পনেই দিশেহারা সাধারণ মানুষ
চাক্ষুষদর্শীদের বক্তব্য, প্রথমে হালকা দুলুনির মতো অনুভূতি হয়। তারপর আচমকাই ফ্যান, জানালার কাঁচ ও ঝুলন্ত বস্তু দুলতে শুরু করে। কেউ কেউ জানান, মেঝে যেন কেঁপে উঠেছিল। সময় খুব বেশি না হলেও, আচমকা এই অভিজ্ঞতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুরের ব্যস্ত সময়ে অফিসপাড়া ও বাজার এলাকাতেও হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্কুল-কলেজের কিছু জায়গায় সতর্কতামূলকভাবে পড়ুয়াদের খোলা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। আবাসনের বাসিন্দারা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসেন।
আফটারশকের আশঙ্কা
ভূমিকম্পের মূল কম্পনের পর হালকা আফটারশক অনুভূত হওয়ার খবরও মিলেছে কিছু এলাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের পর ছোট আকারের আফটারশক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই প্রশাসনের তরফে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ
রাজ্য প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি। বিভিন্ন দমকল ও জরুরি পরিষেবা দলকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে—
অযথা গুজব ছড়াবেন না
বহুতলে থাকলে কম্পনের সময় লিফট ব্যবহার করবেন না
নিরাপদ খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন
ভেঙে পড়ার ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে দূরে থাকুন
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ। টেকটোনিক ফল্ট লাইনের নড়াচড়ার কারণে মাঝেমধ্যেই এই ধরনের কম্পন অনুভূত হয়। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা স্বল্পস্থায়ী এবং বড় ক্ষতির কারণ হয় না।
মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, কিন্তু বড় ক্ষতি নয়
শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় সাময়িক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। সন্ধ্যার মধ্যে অধিকাংশ এলাকা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে যায়।
প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত বড় ধরনের কোনো কাঠামোগত ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর নেই। তবে পরিস্থিতির উপর নজরদারি জারি রয়েছে।
উপসংহার:
কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্পেই দুই বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়ালেও বড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় সচেতনতা ও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপই বড় দুর্ঘটনা রুখতে পারে। নাগরিকদের শান্ত থেকে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।