মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে। পরিস্থিতির অবনতি এবং আকাশসীমা সংক্রান্ত নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে একাধিক বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট পরিষেবা বাতিল বা পুনর্নির্ধারণের পথে হাঁটছে। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে, আজ প্রায় ৪৪৪টি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বহু আন্তর্জাতিক রুট সাময়িকভাবে বন্ধ বা পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষত যেসব ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইউরোপ বা আমেরিকার দিকে যায়, সেগুলির উপরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে সময় ও খরচ—দুই-ই বেড়েছে।
ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন হলে ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা-সহ দেশের একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীরা যেন বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা জেনে নেন। অনেক ক্ষেত্রে রিফান্ড, রিশিডিউল বা বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির। সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আকাশপথে বিধিনিষেধ আরও কড়াকড়ি হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। ফলে আগামী কয়েকদিন বিমান পরিষেবা আংশিকভাবে বিঘ্নিত থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান–ইজরায়েল সংঘাত কেবল ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাই বাড়াচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যেও তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমান চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।