ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা, তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ—সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেই নিহতের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের ঘনঘটা। ইজরায়েলের তরফে ইরানের একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলার খবর সামনে আসতেই তেহরান-সহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে গোটা অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজধানী তেহরান, কারাজ, কেরমানশাহ-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে সামরিক ও নিরাপত্তা ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গভীর রাত থেকেই আকাশপথে যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের শব্দ শোনা যায়, তার কিছুক্ষণ পরই একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। বহু জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে বলেও খবর মিলেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-কে ঘিরে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, হামলায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়ে পরে মারা গিয়েছেন। যদিও এই তথ্য এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবুও খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ব কূটনীতিতে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে।
ইজরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলা ছিল ‘প্রতিরোধমূলক’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত। তাদের দাবি, ইরানের কিছু সামরিক প্রকল্প ভবিষ্যতে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারত। অপরদিকে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলার ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি খামেনেইয়ের মৃত্যুর দাবি সত্যি হয়, তবে তা ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় বিরাট প্রভাব ফেলবে। সর্বোচ্চ নেতার পদ শুধু ধর্মীয় নয়, বরং দেশের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অনুপস্থিতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একাধিক দেশ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। জাতিসংঘেও জরুরি বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর। তেলের আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে—দামে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরানে সাম্প্রতিক হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর দাবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে এক অনিশ্চিত অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেবে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আগামী কয়েকদিন গোটা বিশ্বের নজর থাকবে তেহরান ও জেরুজালেমের দিকেই।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these