খামেনেইয়ের মৃত্যুর দাবিকে ঘিরে করাচিতে উত্তাল জনতা, মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা ও ভাঙচুর

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর দাবিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আবহে এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল পাকিস্তানের করাচি। রবিবার শহরের মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে জড়ো হওয়া জনতার একাংশ হঠাৎই উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং কনস্যুলেট চত্বরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই করাচির বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হন। শুরুতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চললেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কনস্যুলেটের বাইরের অংশে ইট-পাটকেল ছোড়া, গেট ভাঙার চেষ্টা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনা সামনে আসে।
পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। যদিও হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তান প্রশাসন ঘটনার পর করাচির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। কনস্যুলেট চত্বরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু এলাকায় সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং খামেনেইয়ের মৃত্যুর দাবিকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বে যে আবেগের সঞ্চার হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই বিক্ষোভে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদেশি কনস্যুলেট বা দূতাবাসে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এর কূটনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের তরফে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা পাকিস্তান সরকারের কাছে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। করাচির পরিস্থিতি এখন আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির রেশ এবার ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়াতেও। আন্তর্জাতিক রাজনীতির অস্থিরতার প্রভাব যে কতটা গভীর হতে পারে, করাচির এই ঘটনাই তার নতুন উদাহরণ হয়ে উঠল।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these