কড়া নজরদারিতে এসএসসি গ্রুপ-সি পরীক্ষা পরে আসতেই হবে হাওয়াই চটি, ৩ হাজার শূন্যপদের জন্য পরীক্ষায় বসলেন প্রায় ৮ লক্ষ প্রার

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। রবিবার, ১ মার্চ থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) গ্রুপ-সি নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা। কয়েক লক্ষ চাকরিপ্রার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে সকাল থেকেই ছিল পরীক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
সূত্রের খবর, রাজ্য জুড়ে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, বর্ধমান, মালদহ-সহ প্রায় সব জেলাতেই পরীক্ষাকেন্দ্র করা হয়েছে। সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে যান। পরিচয়পত্র ও অ্যাডমিট কার্ড যাচাই করে তবেই পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও যাতে বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। একাধিক কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থাও ছিল বলে জানা গেছে। পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন বা কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
পরীক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, বহুদিন ধরে এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। আগের নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক ও আইনি জটিলতার পরে এই পরীক্ষাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা ও আশঙ্কা দুই-ই ছিল। তবে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
অভিভাবকরাও সকাল থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে ভোরবেলায় রওনা দিয়েছেন, যাতে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
পরীক্ষা শেষে বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীই প্রশ্নপত্রকে ‘মধ্যম মানের’ বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও কিছু বিভাগে প্রশ্ন তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল বলেও দাবি করেছেন অনেকে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে এবং ফল প্রকাশের বিষয়ে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এসএসসি গ্রুপ-সি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন নজর ফলাফল ও পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিকে।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these