খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর যুদ্ধে নামল হিজবুল্লাহ, ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ — মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর এবার সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিল লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে সংগঠনটি। ফলে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এখন কার্যত বহু ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হিজবুল্লাহর সরাসরি অংশগ্রহণ

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইজরায়েলের “আগ্রাসন” এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর হামলার জবাব দিতেই তারা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সংগঠনের দাবি, সীমান্ত ঘেঁষা একাধিক ইজরায়েলি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন পরোক্ষভাবে সমর্থন জানালেও এবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে পূর্ণমাত্রায় সংঘাতে জড়াল হিজবুল্লাহ। এর ফলে লেবানন-ইজরায়েল সীমান্তে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।

ইজরায়েলের পাল্টা জবাব

হামলার পরপরই ইজরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালায়। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, অস্ত্রভান্ডার এবং কমান্ড পয়েন্ট লক্ষ্য করেই এই অভিযান। সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় বাসিন্দাদের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে সীমান্তবর্তী অঞ্চল। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। যদিও হতাহতের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনও স্পষ্ট নয়।

সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই ইরান ও তার মিত্র শক্তিগুলির প্রতিক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছিল। হিজবুল্লাহর সরাসরি অংশগ্রহণ সেই আশঙ্কাকেই সত্যি প্রমাণ করল বলে মত কূটনৈতিক মহলের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতে যদি লেবানন পূর্ণমাত্রায় জড়িয়ে পড়ে, তবে তা গোটা পশ্চিম এশিয়াকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

লেবাননের অভ্যন্তরীণ চাপ

লেবাননের রাজনৈতিক মহলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই সংকটাপন্ন। তার উপর পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে দেশটির অবকাঠামো ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর সামরিক সিদ্ধান্ত লেবাননের কেন্দ্রীয় সরকারের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও সংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘ সহ একাধিক দেশ দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তাদের স্বার্থ ও মিত্রদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সামনে কী?

বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান, হিজবুল্লাহ ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে তা পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ঘনাচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর যে প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল, হিজবুল্লাহর যুদ্ধে যোগদান সেই পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে। আগামী কয়েক দিনই নির্ধারণ করবে সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these