মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ইরান-ইজরায়েল সংঘাত ঘিরে যখন পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় ধর্মীয় সফরে সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় ছিলেন কলকাতার মেয়র এবং রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম। হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাঁর সফর ঘিরে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রিয়দর্শিনী তাঁর মাকে নিয়ে পবিত্র উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সফরটি মূলত ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত হলেও, ওই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় অনেক দেশেই বিমান চলাচল এবং যাতায়াতে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে তাঁদের যাত্রাতেও।
সংঘাতের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়তে থাকে। কলকাতায় থাকা ফিরহাদ হাকিম নিয়মিত যোগাযোগ রেখে মেয়ে ও স্ত্রীর খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকায় যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার জন্যও পরামর্শ দেন তিনি।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শেষ পর্যন্ত প্রিয়দর্শিনী ও তাঁর মা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। জানা যায়, সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে একটি বিমানের ব্যবস্থা পাওয়া যায়। এরপর দ্রুত জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছে তাঁরা দেশে ফেরার উদ্যোগ নেন।
তবে বিমানবন্দরে পৌঁছে কিছুটা অস্বাভাবিক পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। প্রিয়দর্শিনীর কথায়, বিমানবন্দরের পরিবেশ অনেকটাই অস্বাভাবিক ও শান্ত ছিল। বহু যাত্রী উদ্বিগ্নভাবে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছানোর অপেক্ষায় ছিলেন। পরিস্থিতি অনেকটা অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল বলে জানান তিনি।
অবশেষে সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে বিমানে ওঠা সম্ভব হয় এবং নিরাপদেই ভারতে ফিরে আসেন প্রিয়দর্শিনী ও তাঁর মা। দেশে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বহু দেশের নাগরিকই যাতায়াতের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব যে সাধারণ মানুষের সফর ও পরিকল্পনার ওপর কতটা পড়তে পারে, এই ঘটনাও তার একটি উদাহরণ বলেই মনে করছেন অনেকেই।
পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে এসে প্রিয়দর্শিনীও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কয়েকদিনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরাই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।