শ্রীলঙ্কা উপকূলে ভয়াবহ সামরিক সংঘর্ষ, মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস — নিহত অন্তত ৮৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত মহাসাগরে চাঞ্চল্যকর সামরিক ঘটনার সাক্ষী রইল বিশ্ব। শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। এই ঘটনায় অন্তত ৮৭ জন নৌসেনার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। বহু নাবিক এখনও নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডুবন্ত যুদ্ধজাহাজটির নাম আইআরআইএস ডেনা (IRIS Dena)। এটি ইরানের নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ফ্রিগেট বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক নৌ-অভিযানে অংশ নিয়ে জাহাজটি ইরানে ফিরছিল। সেই সময়েই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

কীভাবে ঘটল হামলা?

প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করার সময় মার্কিন সাবমেরিন থেকে টর্পেডো নিক্ষেপ করা হয়। আচমকা আঘাতে জাহাজটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সমুদ্রে ডুবে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বহু নাবিক সেখানেই প্রাণ হারান।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মহল ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। যদিও হামলার কারণ এবং প্রেক্ষাপট নিয়ে এখনও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।

উদ্ধারকাজ ও হতাহতের সংখ্যা

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সমুদ্র থেকে এখন পর্যন্ত ৮৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ৩০ জনেরও বেশি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও বহু নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা।

সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে, যা পরিবেশগত দিক থেকেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উত্তেজনা চরমে

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সঞ্চার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারত মহাসাগরে এমন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান এই ঘটনাকে ‘উস্কানিমূলক ও বেআইনি আক্রমণ’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ

জাতিসংঘ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা, এই হামলার জেরে বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সময়ে সাবমেরিন থেকে সরাসরি টর্পেডো হামলায় একটি সক্রিয় যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে এই নৌ-সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা। আগামী কয়েক দিনে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these