ওয়াশিংটন/নেভাডা: ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার আবহে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যে একটি সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে এক সপ্তাহে ১০০-র বেশি কম্পন রেকর্ড হওয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—এগুলি কি গোপন নিউক্লিয়ার পরীক্ষার ফল? যদিও সরকারি ও বৈজ্ঞানিক মহল বলছে, এ ধরনের দাবির পক্ষে এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নেভাডার টোনোপাহ টেস্ট রেঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন ধরা পড়েছে। ওই এলাকা সামরিক মহড়া ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পরীক্ষার জন্য পরিচিত। অতীতে নেভাডা টেস্ট সাইটে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা হয়েছে—এই ইতিহাসের কারণেই নতুন কম্পন ঘিরে সন্দেহ জোরদার হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, নেভাডা প্রাকৃতিকভাবেই ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল। সেন্ট্রাল নেভাডা সিসমিক জোন বরাবর ছোট-মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প নিয়মিত ঘটে। সাম্প্রতিক কম্পনগুলির অধিকাংশই স্বল্পমাত্রার, যদিও একটি কম্পনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল বলে জানা গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমিকম্প ও ভূগর্ভস্থ বিস্ফোরণের সিসমিক স্বাক্ষর আলাদা; এখনও পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে পারমাণবিক পরীক্ষার নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা সংঘাত নিয়ে উত্তেজনা চরমে। এমন সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির কাছে ধারাবাহিক কম্পন রেকর্ড হওয়ায় জল্পনা বাড়ে। বিভিন্ন মহল থেকে স্বচ্ছতার দাবি উঠেছে—সাম্প্রতিক সিসমিক কার্যকলাপের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হোক।
সরকারি সূত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও নিউক্লিয়ার পরীক্ষার ঘোষণা নেই। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত সামরিক মহড়া, বিস্ফোরক পরীক্ষার ক্ষুদ্র কার্যক্রম কিংবা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভূকম্পন—সবই সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা হলে তার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় আলাদা সিগন্যাল ধরা পড়ার কথা, যা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও রিপোর্ট সামনে আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ভূকম্পনের প্রকৃতি বোঝার জন্য তরঙ্গরূপ, গভীরতা, কেন্দ্রবিন্দু এবং আশপাশের ফল্ট লাইনের গতিবিধি বিশ্লেষণ জরুরি। এসব বিশ্লেষণের ফল প্রকাশ পেলে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। ততদিন পর্যন্ত জল্পনার বদলে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে, নেভাডার কম্পন ঘিরে কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়লেও পারমাণবিক পরীক্ষা সংক্রান্ত দাবির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। নতুন তথ্য সামনে এলে ছবিটা আরও পরিষ্কার হতে পারে।