হোলির রঙ নিয়ে ভয়াবহ ঘটনা: নাগপুরে নাতির গায়ে গরম জল ঢাললেন দিদা, গুরুতর জখম ৪ বছরের শিশু

ভারতের Nagpur শহরে হোলির আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল ভয়াবহ ঘটনায়। মাত্র চার বছরের এক শিশুর গায়ে ফুটন্ত গরম জল ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই দিদার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে Maharashtra রাজ্যের নাগপুর শহরের কোরাডি এলাকায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু মানুষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির নাম Om Harish Wange। হোলির দিন বাড়ির সামনে অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে রঙ খেলছিল সে। খেলতে খেলতেই রঙভর্তি একটি স্প্রে বোতল থেকে সে তার দিদা Sindhu Thackeray-এর গায়ে রঙ ছিটিয়ে দেয়।

অভিযোগ, এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে যান ওই বৃদ্ধা। সেই সময় তিনি একটি বালতিতে গরম জল ভরছিলেন। হঠাৎই রাগের মাথায় তিনি সেই গরম জল শিশুটির উপর ঢেলে দেন। ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে আশপাশের কেউ প্রথমে বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ছোট্ট শিশুটি খেলতে খেলতে তার দিদার কাছে আসে এবং স্প্রে বোতল থেকে রঙ ছিটিয়ে দেয়। এরপরই ওই মহিলা আচমকা একটি বালতি তুলে শিশুটির উপর ঢেলে দেন। গরম জল পড়তেই শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে।

চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। তারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে ঠান্ডা জল ঢালার চেষ্টা করেন যাতে পোড়ার জ্বালা কিছুটা কমে। পরে তাকে দ্রুত নাগপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির শরীরের নিচের অংশে গুরুতর পোড়া ক্ষত হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী তার শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ অংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, একটি ছোট্ট শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত বৃদ্ধার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি আনন্দময় উৎসবের দিনে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা অনেককেই স্তম্ভিত করেছে। হোলি সাধারণত রঙ, আনন্দ এবং মিলনের উৎসব হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নাগপুরের এই ঘটনা সেই আনন্দের আবহকে ম্লান করে দিয়েছে এবং শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these