বন্ধুকে খুন করে টাকা লুট, সেই টাকায় প্রাক্তন স্ত্রীকে উপহার! কর্ণাটকে চাঞ্চল্যকর ঘটনা

বন্ধুত্বের সম্পর্কে এমন নির্মম পরিণতি সচরাচর দেখা যায় না। প্রাক্তন স্ত্রীকে দামি উপহার দেওয়ার জন্য নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেই খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কর্ণাটকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ও নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিনের পরিচিত ছিলেন। দু’জনের মধ্যে প্রায় সাত বছরের বন্ধুত্ব ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহত ব্যক্তি পেশায় একজন ওয়েল্ডার ছিলেন এবং এলাকার মধ্যেই কাজ করতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত তার বন্ধুকে একটি অজুহাত দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। সে জানায় যে একটি ফাইন্যান্স সংস্থার সোনার নিলামে অংশ নিতে হবে এবং সেই জন্য কিছু টাকা সঙ্গে রাখতে হবে। বন্ধুর কথায় বিশ্বাস করে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ওই ব্যক্তি।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত মোটরবাইকে করে তাকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর সেখানেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে তাকে খুন করা হয়। হত্যার পর মৃত ব্যক্তির কাছে থাকা টাকা নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
পরদিন সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি রাস্তার ধারে দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে অভিযুক্ত বন্ধুর নাম। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার অনেক তথ্য সামনে আসে।
পুলিশের দাবি, বন্ধুর কাছ থেকে লুট করা টাকার একটি বড় অংশ সে নিজের প্রাক্তন স্ত্রীর জন্য খরচ করে। জানা গেছে, সেই টাকা দিয়ে সে একাধিক উপহার কিনেছিল। এমনকি একটি দামি টেলিভিশন সেটও কিনে দেয় বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের মতে, প্রাক্তন স্ত্রীকে খুশি করতে এবং তাকে আবার নিজের জীবনে ফেরাতে চেয়েছিল অভিযুক্ত। সেই কারণেই দ্রুত টাকা জোগাড় করার জন্য এই পরিকল্পিত অপরাধের পথ বেছে নিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, দুই বন্ধুর মধ্যে এমন শত্রুতা ছিল বলে কেউ আগে বুঝতে পারেননি। তাই হঠাৎ এমন ঘটনার খবর সামনে আসায় সবাই স্তম্ভিত।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন ও লুটের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনও ব্যক্তি জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই নির্মম ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—অর্থ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন কখনও কখনও মানুষকে কতটা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। তদন্ত এগোলে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these