রাশিয়ার তেল কেনায় ৩০ দিনের ছাড়, তবু স্পষ্ট বার্তা ভারতের—“অনুমতির অপেক্ষা করিনি কখনও”

Qরাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ৩০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছে, যাতে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যেতে পারে। তবে এই প্রসঙ্গে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, দেশের জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে কোনও বিদেশি শক্তির অনুমতির উপর ভারত নির্ভর করে না।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে তেল পরিবহণে অনিশ্চয়তার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর এবং স্ট্রেইট অব হরমুজ অঞ্চলে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠায় অনেক দেশই বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে অস্থায়ীভাবে ৩০ দিনের একটি ছাড় দিয়েছে বলে খবর।
তবে ভারতের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারতের জ্বালানি নীতি সবসময়ই স্বাধীনভাবে নির্ধারিত হয়েছে। দেশ কখনওই কোনও দেশের অনুমতির অপেক্ষায় বসে থাকেনি। দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানি করা হয় এবং ভবিষ্যতেও সেই নীতি বজায় থাকবে বলেই জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলির একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তবুও ভারত এবং কয়েকটি অন্যান্য দেশ তুলনামূলক কম দামে রাশিয়ার তেল আমদানি করে নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটাচ্ছে। এতে ভারতের আমদানি খরচ কিছুটা কমেছে বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় অনেক দেশই বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহ এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দামেও ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার—দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সর্বাগ্রে। তাই আন্তর্জাতিক চাপ বা কূটনৈতিক জটিলতা সত্ত্বেও দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, যদি ভারত স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ‘ছাড়’ বা ‘waiver’-এর প্রসঙ্গ কেন সামনে আসছে। যদিও সরকারপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এই ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে এবং এতে ভারতের নীতিগত অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উপর। তবে ভারতের অবস্থান আপাতত পরিষ্কার—দেশের জ্বালানি স্বার্থ রক্ষাই প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these