গ্যাস সরবরাহে নতুন নীতি কেন্দ্রের, কোন খাতে কত গ্যাস মিলবে ঠিক করে দিল সরকার

দেশজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র সরকার। সম্প্রতি জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, দেশের কোন খাতে কতটা প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হবে এবং কোন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত সরবরাহের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিকে যাতে কোনওভাবে প্রভাবিত না করে, সেই লক্ষ্যেই এই নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছে। সেই কারণে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস এবং যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজি-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়িতে সরবরাহ করা গ্যাস বা পিএনজি (PNG) এবং গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত সিএনজি (CNG)-এর ক্ষেত্রে পূর্ণ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের গ্যাস সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও শহরের গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থার আওতায় থাকা বিভিন্ন পরিষেবাকেও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। এর ফলে বাড়ির রান্না, ছোট ব্যবসা বা গাড়ির জ্বালানি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে আপাতত বড় কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা সীমিত করা হতে পারে বলে জানা গেছে। সরকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে যে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র তাদের গড় প্রয়োজনের একটি নির্দিষ্ট অংশ অনুযায়ী গ্যাস পাবে। এর মধ্যে চা শিল্প প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস পেতে পারে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে সার উৎপাদনকারী শিল্পকে প্রায় ৭০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তেল শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলির ক্ষেত্রেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমানো হতে পারে। জানা গেছে, এই খাতে প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্যাস দেওয়া হতে পারে। এর ফলে শিল্প উৎপাদনে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার ফলে অনেক দেশই তাদের জ্বালানি ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাস করছে। ভারতও সেই পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এদিকে শিল্প মহলের একাংশের মতে, গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদনের পরিমাণও কমতে পারে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলির ওপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিষেবাকে কোনওভাবেই প্রভাবিত হতে দেওয়া হবে না। দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের অবস্থা এবং ভবিষ্যতে তার পরিবর্তনের উপরই ভারতের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these