কোচবিহার: উত্তরবঙ্গের কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। সারা বছর ধরেই এখানে আলু, বাঁধাকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়। তবে চলতি মৌসুমে বাজারের পরিস্থিতি কৃষকদের জন্য খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। আলু ও বাঁধাকপির দাম একেবারে তলানিতে পৌঁছনোর ফলে অনেক চাষিকেই লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও এর মাঝেই টমেটোর তুলনামূলক ভালো দাম কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষকদের কথায়, এবছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে সেই তুলনায় চাহিদা কম থাকায় পাইকারি বাজারে দাম অনেকটাই নেমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে কয়েক টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে বীজ, সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের খরচ তুলতেই সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। একই অবস্থা বাঁধাকপির ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে। বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকায় বাঁধাকপির দামও খুব কমে গেছে, যার ফলে চাষিদের লাভ তো দূরের কথা, খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে অন্যান্য সবজির তুলনায় টমেটোর বাজার কিছুটা ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। হলদিবাড়ি অঞ্চলে ব্যাপক পরিমাণে টমেটো চাষ হয় এবং এখানকার টমেটো উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বাইরেও পাঠানো হয়। বর্তমানে পাইকারি বাজারে টমেটোর দাম তুলনামূলকভাবে ভালো থাকায় অন্তত উৎপাদন খরচ উঠে যাচ্ছে এবং সামান্য লাভও হচ্ছে বলে দাবি করছেন চাষিরা।
কৃষকদের একাংশ জানান, গত বছর টমেটোর উৎপাদন অনেক বেশি হওয়ায় দাম অত্যন্ত কমে গিয়েছিল। তখন বহু কৃষককে লোকসান গুনতে হয়েছিল। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। পাইকারি বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা টমেটো সংগ্রহ করে শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বড় বড় বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখান থেকে আবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও এই টমেটো পাঠানো হচ্ছে। ফলে চাহিদা কিছুটা বাড়ায় দামও স্থিতিশীল রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, সবজির বাজারে দামের এই ওঠানামা তাদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। কখনও ভালো দাম মিললে কিছুটা লাভ হয়, আবার কখনও দাম এতটাই কমে যায় যে চাষের খরচই তুলতে সমস্যা হয়। তাই কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নতি করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চলতি মৌসুমে আলু ও বাঁধাকপির দাম কৃষকদের হতাশ করলেও টমেটোর তুলনামূলক ভালো বাজার কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে হলদিবাড়ি এলাকার চাষিদের। তবে ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।