কাবুল: আফগানিস্তানের রাজধানী Kabul-এ ভয়াবহ হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল আন্তর্জাতিক মহলে। অভিযোগ উঠেছে, Pakistan-এর বিমান হামলায় অন্তত চারজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাতের অন্ধকারে এই হামলার পর গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে রাজধানীর একাধিক এলাকা। হামলার জেরে কয়েকটি আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
রাতের অন্ধকারে বিস্ফোরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গভীর রাতে আচমকাই আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায়। এরপর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর বহু জায়গায় আগুন লেগে যায় এবং ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।
স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের কাছাকাছি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের বের করার চেষ্টা চালায়।
একাধিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলার ফলে কয়েকটি বাড়ি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের বাড়িগুলির জানলা-দরজা ভেঙে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল কিছু নির্দিষ্ট জায়গা, কিন্তু তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর।
আফগান প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, এই হামলায় সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানি হয়েছে এবং এটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায়ও উত্তেজনা
শুধু কাবুল নয়, আফগানিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন বেশ কয়েকটি অঞ্চলেও হামলার খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে Kandahar এবং তার আশপাশের এলাকাগুলিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার জ্বালানি ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি
অন্যদিকে পাকিস্তানের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল কিছু জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘাঁটি। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে কিছু সশস্ত্র সংগঠন তাদের দেশে হামলা চালাচ্ছে। সেই কারণেই ওই ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে আফগান প্রশাসন এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, এই হামলায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক নিয়মের লঙ্ঘন।
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। এই হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি দুই পক্ষকেই সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
হামলার পর কাবুলের বহু এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতভর অনেক পরিবার ঘরের বাইরে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ধরনের হামলার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
পরিস্থিতির দিকে নজর আন্তর্জাতিক মহলের
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই উত্তেজনা দ্রুত কমানো না যায়, তাহলে তা ভবিষ্যতে বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সংক্ষেপে:
কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে।