কলকাতা: ব্যস্ত অফিস সময়ে বড়সড় ট্রেন বিপর্যয়ের মুখে পড়ল শিয়ালদহ মেন লাইন। হঠাৎ সিগন্যালের প্রযুক্তিগত গোলযোগের জেরে একাধিক লোকাল ট্রেন মাঝপথে দাঁড়িয়ে পড়ে। ফলে আগরপাড়া, বেলঘরিয়া সহ একাধিক স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। এই ঘটনায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।
রেল সূত্রে জানা গেছে, সকালে হঠাৎই লাইনের সিগন্যাল ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে ট্রেন চলাচল ধীর হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক ট্রেন লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে।
আগরপাড়ায় প্রথম বিপত্তি
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আগরপাড়া স্টেশনের কাছে একটি লোকাল ট্রেন আচমকা দাঁড়িয়ে পড়ে। সেই ট্রেনের পিছনে থাকা একাধিক ট্রেনও ধীরে ধীরে থেমে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাইনে ট্রেনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।
অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় ট্রেনের ভিতরে আটকে থাকেন। পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে অনেকেই ট্রেন থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মে বা লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন।
বেলঘরিয়া স্টেশনেও সমস্যা
এই সমস্যার প্রভাব পড়ে বেলঘরিয়া স্টেশনেও। সেখানে একটি কৃষ্ণনগরগামী লোকাল ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে পড়ে। তার পিছনেও আরও কয়েকটি ট্রেন আটকে যায়।
ফলে আপ এবং ডাউন—দু’দিকের লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
সকালবেলার অফিস টাইম হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে আটকে পড়েন। অনেকেই অফিস বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাওয়ার জন্য বিকল্প পরিবহণ খুঁজতে শুরু করেন।
স্টেশন চত্বরে যাত্রীদের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় রেল কর্মীদের।
পর্যাপ্ত ঘোষণা না থাকায় বাড়ল ক্ষোভ
যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রথমদিকে স্টেশন থেকে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেননি ঠিক কী কারণে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রয়েছে।
এই কারণে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।
প্রযুক্তিগত গোলযোগই কারণ
রেল সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিগন্যালের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে ঠিক কোন কারণে সিগন্যাল ব্যবস্থায় এই গোলযোগ দেখা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য প্রযুক্তিগত দলকে কাজে লাগায়।
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিষেবা
কিছু সময় পর প্রযুক্তিগত সমস্যা মেরামতের কাজ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। যদিও ততক্ষণে বহু ট্রেন দেরিতে চলতে শুরু করে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
নিত্যযাত্রীদের ক্ষোভ
এই ঘটনার পর নিত্যযাত্রীদের একাংশ রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাদের দাবি, ব্যস্ত সময়ে এই ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা প্রায়ই ঘটে এবং এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।
অনেক যাত্রীই দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে রেল কর্তৃপক্ষকে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও দ্রুত তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।