কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে, আগামী এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে এই নির্বাচন এক থেকে তিন দফায় সম্পন্ন করার। যদিও এখনও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তৎপরতা বেড়েছে।
রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী মে মাসের শুরুতেই শেষ হওয়ার কথা। সেই কারণে সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই তার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার করতে হবে।
প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একাধিক দফায় বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটকর্মীদের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংবেদনশীল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কেন একাধিক দফায় ভোট?
রাজ্যের বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকা, বিপুল সংখ্যক ভোটার এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি মাথায় রেখেই একাধিক দফায় ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও শেষ পর্যন্ত কত দফায় ভোট হবে, তা নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।
রাজনৈতিক ময়দানে তৎপরতা
নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। বিভিন্ন দল সংগঠন শক্তিশালী করা, সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন এবং প্রচারের কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী দল বিজেপি, পাশাপাশি বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস জোটও নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক প্রচার আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই একে অপরকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। সভা, মিছিল এবং জনসংযোগ কর্মসূচিও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
ঘোষণার অপেক্ষায় রাজ্য
এখন রাজ্যের রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। খুব শীঘ্রই ভোটের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।