মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথগুলিতে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে এসেছে। এলপিজি বহনকারী জাহাজ ‘শিবালিক’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে জাহাজটি নিরাপদে পার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন মহলে।
হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানির বড় অংশই এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। তাই এই অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নানা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই এলপিজি বহনকারী জাহাজ ‘শিবালিক’ ওই পথ অতিক্রম করেছে বলে জানা যায়। সূত্রের খবর, জাহাজটি নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করেই নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে যায়। ফলে আপাতত জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনও বাধা তৈরি হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। তাই এই পথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বা জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে তার প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বিভিন্ন দেশ। আন্তর্জাতিক স্তরেও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি পরিবহণের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেও এলপিজি জাহাজ ‘শিবালিক’-এর নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা আপাতত স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কী দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই ভবিষ্যতের জ্বালানি পরিবহণের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।