উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় হঠাৎ রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবার সরাসরি কলকাতা পুলিশের কাছে পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, শহরের বড় রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল করে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় গিরিশ পার্ক এলাকায় আচমকাই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, মিছিল যাওয়ার সময় এক মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে কথাকাটাকাটি হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয় এবং এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। বেশ কয়েকটি গাড়ি এবং আশপাশের কিছু সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের একাধিক টিম। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং গোটা এলাকায় ব্যারিকেড বসিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। কিছু সময়ের চেষ্টার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
এই ঘটনার পরই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে কলকাতা পুলিশের কাছে পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সংঘর্ষ ঠিক কীভাবে শুরু হল, তখন এলাকায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ খতিয়ে দেখে আরও দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও উসকানির অভিযোগ তুলেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে গিরিশ পার্ক ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি সৃষ্টি না হয়, তার জন্য প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট চাওয়ার পর প্রশাসনিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে। তদন্তের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কমিশনের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে বলে সূত্রের খবর।