ঘরের ভিতরে আত্মহত্যার চেষ্টা করছিল স্ত্রী, বাইরে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছিল স্বামী—ঘটনার পর গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
ডেস্ক রিপোর্ট:
অন্ধ্রপ্রদেশে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্ত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করার সময় তাকে বাঁচানোর বদলে মোবাইলে পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করছিল তার স্বামী। পরে ওই ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের কড়পা জেলার রাজমপেট এলাকার। মৃত মহিলার নাম কৃষ্ণাভেনি বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্বামী শ্রীনিবাস পেশায় রেলওয়ের এক কর্মী। স্থানীয় সূত্রে খবর, দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল এবং প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।
ঘটনার দিনও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বচসা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঝগড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষ্ণাভেনি নিজের ঘরে চলে যান এবং দরজা বন্ধ করে দেন। অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি শাড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, এই সময় ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন তাঁর স্বামী। অভিযোগ, স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা তো দূরের কথা, তিনি পরিস্থিতি দেখেও কোনও সাহায্যের উদ্যোগ নেননি। বরং জানলার ফাঁক দিয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি রেকর্ড করতে থাকেন।
কিছুক্ষণ পরেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছালে পুরো বিষয়টি সামনে আসে। পরে ওই ভিডিও ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মেয়ের উপর মানসিক অত্যাচার চালাতেন তাঁর স্বামী। এমনকি ঘটনার দিনও ঝগড়ার পরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, স্বামীর নির্যাতন ও আচরণই শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণাভেনিকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ভিডিওটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার কোনও প্রমাণ রয়েছে কি না। সেই অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়াতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্ধ্রপ্রদেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার আসল কারণ সামনে আসবে না বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।