উত্তর সিকিমে জলসংকট ও তীব্র যানজট: পর্যটক ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে

উত্তর সিকিমে গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টি, ভেঙে পড়া রাস্তা, পাহাড়ি ধস ও পানীয় জলের ঘাটতি মিলে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফল ভোগ করছেন সবচেয়ে বেশি পর্যটকরা ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। যানজট ও জলকষ্টের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারদাবারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

প্রবল যানজটে আটকে পড়ছেন পর্যটকরা

উত্তর সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ধসের কারণে রাস্তা ভেঙে পড়ছে বারবার। সিকিমে প্রবেশের মূল লাইফলাইন NH-10 প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার কারণে সিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়া-আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

পর্যটকদের অভিযোগ—

  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানজটে
  • তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার পথ কখনও ছয়-সাত ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকছে
  • এনজেপি স্টেশন পৌঁছাতে পারবেন কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা

শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে যাত্রাপথ পিছিয়ে দিচ্ছেন।

তীব্র জলকষ্ট—দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত

প্রবল বৃষ্টি ও ধসের জেরে উত্তর সিকিমের জল সরবরাহ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে। অনেক জায়গায় পানীয় জলের ঘাটতি দেখা গেছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও হোটেল ও দোকান থেকে স্বাভাবিক দামে জল পাওয়া যাচ্ছে না।

অগ্নিমূল্যে খাবারদাবার—দুশ্চিন্তা বেড়েছে

দুর্গম এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।

পর্যটকরা জানিয়েছেন—

  • ১০ টাকার মেরি বিস্কুট—১০০ টাকা
  • ওয়াই-ওয়াই নুডলস—২০০ টাকার কাছাকাছি
  • ১০ টাকার জল—৬০ থেকে ৭০ টাকা

সরবরাহ কম, চাহিদা বেশি—ফলে পর্যটকদের বাধ্য হয়েই পাঁচগুণ পর্যন্ত দাম দিয়ে খাবার কিনতে হচ্ছে।

টানা বিপর্যয়ে পর্যটন শিল্পে বড় ক্ষতি

উত্তর সিকিমে এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির খবর আগেই জেনে যাওয়ায় বহু পর্যটক তাদের সিকিম ভ্রমণ বাতিল করেছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে—

  • হোটেল মালিকদের ওপর
  • স্থানীয় ট্যাক্সি-ড্রাইভার ও গাইডদের ওপর
  • ছোট দোকান ও বাজারের ওপর

পর্যটন নির্ভর এলাকায় এই ক্ষতি পূরণে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সমস্যার মূল—বৃষ্টির প্রকোপ ও ভঙ্গুর অবকাঠামো

সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ধস দেখিয়ে দিয়েছে যে উত্তর সিকিমে—

  • রাস্তা
  • ব্রিজ
  • জল সরবরাহ
  • যোগাযোগব্যবস্থা

অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। একাধিক অঞ্চলে আগেও মেরামতের কাজ দেরিতে হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা আজ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি?

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে—उत्तर সিকিমে বৃষ্টি আরও কয়েকদিন চলতে পারে। তাই স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করছেন পর্যটক ও প্রশাসন।

এরই মধ্যে প্রশাসন উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কার করার কাজে নেমেছে, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও বেশ কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these