নৈহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা:
গ্যাস সিলিন্ডারের অপ্রতুলতার জেরে বড়সড় প্রভাব পড়ল উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড় মা কালী মন্দিরে। বহু বছর ধরে চলা ভক্তদের জন্য ভোগ প্রসাদ রান্না ও বিতরণের প্রথা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। রবিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে।
নৈহাটির এই প্রাচীন মন্দিরে প্রতিদিন অসংখ্য ভক্তের সমাগম হয়। বিশেষ করে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে হাজার হাজার ভক্ত বসে ভোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু সম্প্রতি রান্নার জন্য পর্যাপ্ত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছে মন্দির কমিটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত ভোগ রান্না বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্দির সূত্রে জানা গেছে, এতদিন সপ্তাহে তিন দিন—সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার—মন্দিরে বসে প্রায় সাতশো ভক্ত ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করতেন। এছাড়াও মঙ্গলবার ও শনিবার ভক্তদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াত কয়েক হাজারে। ওই দিনগুলিতে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি মানুষের জন্য রান্না করা হত। এত বিপুল পরিমাণ রান্নার জন্য একাধিক গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেই রান্না চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে মন্দির কমিটি জানিয়েছে, আপাতত বসিয়ে ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও ভক্তদের জন্য ফলপ্রসাদ ও মিষ্টি প্রসাদ দেওয়া আগের মতোই চালু থাকবে। ফলে ভক্তদের ধর্মীয় আচার পালনে বড় কোনও বাধা তৈরি হবে না বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।
তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ইতিমধ্যেই বিকল্প ভাবনাও শুরু হয়েছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমাতে ডিজেলচালিত ওভেন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি ডিজেল ওভেন বসিয়ে বড় পরিসরে রান্না করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি সেই ব্যবস্থা কার্যকর হয়, তাহলে আবারও আগের মতো ভোগ রান্না ও বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে সাময়িক হতাশা প্রকাশ করলেও তারা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মন্দির কমিটির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। অনেকেই আশা করছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার আগের মতো ভোগের সুব্যবস্থা ফিরে আসবে।
মন্দির কমিটির সদস্যদের কথায়, “প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জন্য রান্না করা সহজ কাজ নয়। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে সেই ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। তাই আপাতত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আমরা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করছি।”
উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম জনপ্রিয় এই মন্দিরে ভোগ বিতরণের ঐতিহ্য বহু বছরের। তাই গ্যাস সংকট কাটলেই আবারও সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফেরার আশা করছেন ভক্তরা। এখন দেখার, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং কবে আবার বড় মা কালী মন্দিরে আগের মতো ভোগ রান্নার ধোঁয়া উঠতে শুরু করে।