গ্রীষ্ম আসতে না আসতেই রাজ্যে অস্বাভাবিক গরমের দাপট শুরু হয়েছে। মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকেই তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষকে চরম অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে। শহর থেকে জেলা—সব জায়গাতেই গরমের তীব্রতা বাড়ছে, যার ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কিছুটা বেশি রয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এ ধরনের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। শহরাঞ্চলে কংক্রিটের বিস্তার এবং সবুজের অভাব গরমকে আরও তীব্র করে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বৃদ্ধি, ফলে গরম আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুপুরের প্রখর রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং হালকা খাবার গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং ত্বকজনিত সমস্যার সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। হাসপাতালগুলিতে গরমজনিত অসুস্থতার রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলেও জানা গিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, গরমের জেরে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর মিলছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চাষের জমিতে জলসংকট এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, রাজ্যের বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সকলকেই সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার দিকেই নজর রয়েছে সকলের।