গরমের দাপটের মাঝেই হঠাৎ আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনে চমকে উঠেছে রাজ্যবাসী। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখীর প্রভাব ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, একসঙ্গে চারটি চক্রবর্তী সিস্টেম সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েকদিন ঝড়ো হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই আকাশ মেঘলা হয়ে উঠেছে এবং কিছু জায়গায় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিও শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প এবং ভিন্নমুখী বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষের ফলেই এই অস্থির আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরেই কালবৈশাখীর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনাও প্রবল। কিছু জেলায় শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় না থাকা, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছাকাছি আশ্রয় না নেওয়া এবং নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের আরও বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে কৃষিক্ষেত্রেও। ঝড়ো হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। ইতিমধ্যেই কিছু জেলায় চাষের জমিতে জল জমে যাওয়ার খবর মিলেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে কালবৈশাখী বেশি সক্রিয় থাকে, তবে এ বছর মার্চ মাসেই এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এটি মৌসুমি পরিবর্তনেরই একটি ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, রাজ্যের আবহাওয়া পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল। আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন এবং আবহাওয়া দফতর পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে আরও সতর্কতা জারি করা হতে পারে।