আরজি কর হাসপাতালে লিফট বিভীষিকা: ছেলেকে দেখতে এসে মর্মান্তিক মৃত্যু মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

শহরের অন্যতম ব্যস্ত সরকারি হাসপাতাল আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। লিফটের ভিতরে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হল প্রায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির। মৃতের নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি নিজের অসুস্থ ছেলেকে দেখতে এসেছিলেন অরূপবাবু। কিন্তু সেই দেখা আর হয়ে ওঠেনি। হাসপাতালের লিফটেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয় তাঁকে—এমনই অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিবরণ

প্রাথমিক সূত্রে খবর, হাসপাতালের একটি লিফটে ওঠার সময়ই বিপত্তি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লিফটটি আচমকাই বিকল হয়ে পড়ে এবং তার মধ্যেই আটকে পড়েন অরূপবাবু। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লিফটের দরজা না খোলায় এবং যথাসময়ে উদ্ধার না হওয়ায় ভিতরে থাকা অবস্থাতেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঠিক কী কারণে মৃত্যু—শ্বাসরোধ, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণ—তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই তদন্ত শুরু করেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের ঝড়

এই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—

লিফটগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয় কি?

জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার অভাব কেন?

এত বড় একটি সরকারি হাসপাতালে কীভাবে এমন অব্যবস্থাপনা রয়ে গেল?

রোগীর পরিবার এবং সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং চরম অবহেলার ফল।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চাপ

ঘটনার পর স্বাস্থ্য দফতরের ওপর চাপ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

শেষকথা

একজন বাবা ছেলেকে দেখতে এসে আর বাড়ি ফিরলেন না—এই ঘটনাই যেন নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর।

তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে শহরবাসী। এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসবে কি না, আর দোষীদের বিরুদ্ধে আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these