গোর্খাদের গর্ব, আসামের কন্যা এখন জাতীয় নায়িকা**
SE News Desk
বোকাখাটের ছোট্ট শহর—নামটা এখন নতুনভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কারণ সেই শহরের মাটিতেই জন্ম নেওয়া উমা চেত্রি লিখে দিলেন এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস। ভারতের হয়ে আইসিসি মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করে তিনি শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতেরই নয়, সমগ্র দেশের নতুন গর্ব হয়ে উঠেছেন। গোরখা সম্প্রদায়ের কন্যা এই তরুণীর সাফল্য আজ লাখো মানুষের মুখে প্রশংসার ঝর্ণাধারা বইয়ে দিচ্ছে।
শৈশব থেকেই ক্রিকেটে অসম্ভব এক টান ছিল উমার। বাড়ির উঠোন থেকে বিদ্যালয়ের মাঠ—যেখানেই সুযোগ পেতেন, ব্যাট-বল হাতে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। অনেক সময় গ্রামের মানুষ দেখেছেন, ছেলেদের সঙ্গে সমানতালে খেলছেন তিনি। সেই সময়ই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এই মেয়েটির মধ্যে আছে কিছু আলাদা আগুন।
পরিবারের অব্যাহত উৎসাহ, কোচদের দিকনির্দেশনা এবং নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম উমাকে নিয়ে গেল বড় মঞ্চে। বহু বাধা, বহু প্রশ্ন, বহু সন্দেহ—সবকিছুকে পিছনে ফেলে এগিয়েছেন তিনি শুধু নিজের বিশ্বাসের জোরে।
উমা চেত্রি আজ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখালেন উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে, যিনি ভারতের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ জিতলেন। এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নয়—এটি সমগ্র উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের প্রতিভা এবং সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল প্রমাণ।
এই জয়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে, সুযোগ পেলে উত্তর-পূর্ব ভারতের তরুণ-তরুণীরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা দিয়ে দেশকে গর্বিত করতে পারে।
উমার ঐতিহাসিক সাফল্যের খবরে গোর্খা সমাজের মধ্যে আনন্দের জোয়ার ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর সাফল্য আজ গোরখাদের শতাব্দী-প্রাচীন ঐতিহ্য, পরিশ্রম এবং আত্মসম্মানের প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে। আসামের যুবসমাজের মধ্যে উমাকে দেখিয়ে নতুন করে উৎসাহ জাগছে—‘স্বপ্ন দেখলে তা পূরণ হবেই’।
তার বাড়ির সামনে মানুষের ভিড়, গ্রামের পথে মিষ্টি বিলানো, সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দনের বন্যা—সব মিলিয়ে উমা এখন জাতীয় নায়িকার মর্যাদা পেয়ে গেছেন।
উমা চেত্রির এই অসাধারণ যাত্রা আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। তাঁর গল্প দেখিয়ে দেবে—পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে কোনও স্বপ্নই অসম্ভব নয়।
এবার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ, আরও বড় লক্ষ্য। তবে আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে উমার, তাঁর পরিবার ও কোচদের—যারা বিশ্বাস করেছিলেন, বোকাখাটের একটি ছোট্ট মেয়েও বিশ্ব জয় করতে পারে।
আজ, এবং আগামী দিনগুলোতে,
আসাম গর্বভরে বলবে—
“উমা চেত্রি—আমাদের আসামের কন্যা, গোর্খাদের গর্ব!”