দৃষ্টিহীনতাকে কখনও নিজের অগ্রগতির পথে বাধা হতে দেননি ইশান চক্রবর্তী। সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও আজ তিনি একজন সফল অধ্যাপক, গবেষক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই অধ্যাপক প্রমাণ করে চলেছেন—প্রতিবন্ধকতা নয়, দৃঢ় মনোবলই সাফল্যের প্রকৃত চাবিকাঠি।
শৈশবে আংশিক দৃষ্টিশক্তি থাকলেও উনিশ বছর বয়সের পর ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ দৃষ্টি হারান ইশান। কিন্তু সেই কঠিন সময়েও থেমে যাননি তিনি। আধুনিক অডিও প্রযুক্তি ও শ্রবণভিত্তিক শিক্ষাপদ্ধতির সাহায্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন।
বর্তমানে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য পড়ান। তাঁর ক্লাসে ব্রেইলের চেয়ে শব্দ, আলোচনা ও শ্রবণক্ষমতাই বেশি গুরুত্ব পায়। এই পদ্ধতিতে শুধু দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রী নয়, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাও সাহিত্যের গভীরে পৌঁছতে পারছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
শুধু শিক্ষকতায় সীমাবদ্ধ নন ইশান চক্রবর্তী। দৃষ্টিহীনদের জন্য সিনেমা ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট আরও সহজলভ্য করতে অডিও ডিসক্রিপশন সংক্রান্ত কাজেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তাঁর বিশ্বাস, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ভবিষ্যতে দৃষ্টিহীনদের শিক্ষাজগতে আরও বড় সুযোগ এনে দেবে।
ইশান চক্রবর্তীর এই সংগ্রামী ও অনুপ্রেরণামূলক পথচলা আজ বহু তরুণ-তরুণীর কাছে প্রেরণা—যেখানে দৃষ্টিশক্তির চেয়ে দৃষ্টিভঙ্গিই হয়ে উঠেছে সাফল্যের আসল শক্তি।