কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ। বিরোধী দল বিজেপি শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আসন্ন সভার ঠিক আগেই এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের শাসক দল ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে আসছে এবং সংখ্যালঘু ভোটকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস উন্নয়নের রাজনীতি না করে বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে এবং ভুল বার্তা দিয়ে ভোট আদায় করার চেষ্টা চলছে।”
এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির মতে, সাধারণ মানুষ এখন এই রাজনীতি বুঝে ফেলেছেন এবং পরিবর্তনের পক্ষে মনস্থির করছেন। শুভেন্দু অধিকারীর সভায় এই বিষয়গুলি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে বলেও দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বিজেপি নিজের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতেই এই ধরনের অভিযোগ করছে। তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “বিজেপি রাজ্যে কোনও জনভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। তাই তারা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এ ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য আরও বাড়বে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে এই রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে সব নজর শুভেন্দু অধিকারীর সভার দিকে। সেই সভা থেকে বিজেপি কী বার্তা দেয় এবং তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কতটা গভীর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।