ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে কোনও রকম আপস করতে রাজি নয় নির্বাচন দপ্তর। ভোটার ডেটা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO)।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO), অ্যাসিস্ট্যান্ট ERO এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যের লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড যথাযথ নিরাপত্তা বিধি না মেনেই অন্যদের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় নির্বাচন দপ্তরের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিষয়টি নজরে আসতেই রাজ্য নির্বাচন দপ্তর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে তথ্য সুরক্ষায় গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পরই কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন দপ্তরের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটার ডেটার নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রতিটি আধিকারিকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানান, ভোটারদের নাম, ঠিকানা, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই তথ্য যদি ভুল হাতে চলে যায়, তাহলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। সেই কারণেই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভোটার ডেটা ব্যবস্থাপনায় আরও কড়া নিয়ম, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং আধিকারিকদের জন্য বাড়তি প্রশিক্ষণ চালু করা হতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সামনেই বিভিন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়া থাকায় ভোটার তালিকার সঠিকতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান রাজ্যে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় নির্বাচন দপ্তরের বার্তা স্পষ্ট—ভোটারদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না, এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।