পশ্চিমবঙ্গে জাঁকিয়ে শীত — ১৩ বছরের মধ্যে অন্যতম বড় তাপমাত্রা পতন, ১০ ডিগ্রির ঘরে নামল পারদ

কলকাতা: শীত তার পুরো শক্তি নিয়ে হাজির পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে, যা আবহাওয়া দফতরের মতে গত ১৩ বছরের মধ্যে অন্যতম বড় পতন। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে কনকনে ঠান্ডায় কার্যত থমকে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন।

কলকাতা শহরে ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়ায় রাস্তা কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়ে। অফিসযাত্রী, পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাইকেই মোটা জামা, সোয়েটার ও মাফলার পরে বেরোতে দেখা গেছে। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই নিচে নেমে গেছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

উত্তরবঙ্গে শীতের প্রকোপ আরও তীব্র। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় রাতের তাপমাত্রা আরও নীচে নামছে। পাহাড়ি এলাকায় সকালের দিকে কুয়াশার সঙ্গে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা ও পর্যটকেরা। দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতেও ঠান্ডার দাপট স্পষ্ট।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা ঠান্ডা ও শুষ্ক উত্তর-পশ্চিমী হাওয়া এবং পরিষ্কার আকাশের কারণেই এই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

শীতের দাপটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষজন। অনেক জেলায় রাতের বেলা রাস্তার ধারে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে মানুষকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় শেল্টার হোম খোলা হয়েছে এবং দুঃস্থদের জন্য কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও এই কাজে এগিয়ে এসেছে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, শীতজনিত সমস্যা যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকেরা বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। খুব ভোরে বা গভীর রাতে বাইরে বেরোতে হলে গরম পোশাক ব্যবহার করার কথাও বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শীতের দাপট আগামী কয়েকদিন রাজ্যবাসীকে আরও ভোগাতে পারে। আবহাওয়ার নিয়মিত আপডেটের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি সবাইকে নিজেদের ও পরিবারের সুরক্ষার দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই কনকনে ঠান্ডা রাজ্যবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলেছে। শীতের প্রকোপ কবে কমবে, সেদিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these