কলকাতা: রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য চলছে Special Intensive Revision (SIR)–এর কার্যক্রম। সোমবার এই প্রক্রিয়া আবার নতুন দিক পেয়েছে, যখন সাধারণ নাগরিকদের মতো প্রতিনিধি তারকারাও শুনানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। এই পরিবর্তন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজকের দিনটিতে কলকাতার কেন্দ্রীয় শোনা কেন্দ্রগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে দাঁড়াতে দেখা গেছে জনপ্রিয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামি এবং অভিনেত্রী লাবনি সরকারকে। তাঁরা নিজ নিজ অংশের ভোটার তালিকা সংশোধন অথবা যাচাই–বাছাইয়ের জন্য লাইনের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সাধারণ নাগরিকদের মতোই অংশ নিয়েছেন।
রাজ্যের নির্বাচন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ধরণের অংশগ্রহণ “SIR প্রক্রিয়াটিকে আরও গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ করার একটি ইতিবাচক দিক” হিসেবে দেখা হচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে তারকারাও সাধারণ নাগরিকদের মতোই প্রশ্ন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই–বিচার করেছেন।
এমনকি নির্বাচনী কর্মসূচি ও সংশোধনী কাজে অংশগ্রহণের জন্য যারা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁরা অনেকেই বলেছেন যে SIR একটি দায়িত্বজ্ঞানপূর্ণ প্রক্রিয়া এবং সাধারণ মানুষকে যাতে নিজেদের ভোটার হিসেব ঠিকঠাক রাখা যায় সে জন্য এটিতে অংশ নেওয়া দরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, SIR–এর এই ধরণের জনগণভিত্তিক অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারের বিশ্বাস অর্জনের দিকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণ নাগরিকদের মতোই তারকারাও লাইনে দাঁড়ালে এই উদ্যোগের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে এই ইস্যু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ এটি “প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা” বলে প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে বলছেন যে রাজনৈতিক চাপ ও জনসমর্থন তৈরি করতে এমন দৃশ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষও বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। অনেকে মনে করেন, তারকারা লাইনে দাঁড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের সমস্যা আরও দৃশ্যমান হবে এবং প্রশাসনিক স্তরেও দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে। আবার কেউ বলেছেন যে এই অংশগ্রহণ একটি প্রচারণামূলক পন্থা মাত্র।
তবে যে কোনওভাবে আজ SIR–এর আওতায় তারকাদের সার্বজনিক অংশগ্রহণ রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রসঙ্গে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে—যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত একটি গণতান্ত্রিক উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।