পূর্ব বর্ধমান: রাজ্যজুড়ে উন্নয়নের ঢাকঢোল পেটানো প্রচারের মাঝেই একেবারে ভিন্ন ছবি উঠে এল পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের নিমদহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দক্ষিণ হাটসিউড়ি গ্রাম থেকে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই গ্রামে মাত্র এক বছর আগে তৈরি হওয়া ঢালাই রাস্তা এখন কার্যত চলাচলের অযোগ্য। বড় বড় ফাটল, উঠে যাওয়া কংক্রিট, খানাখন্দে ভরা রাস্তা দেখে স্থানীয়দের অভিযোগ— কাজ হয়েছে চরম দায়সারাভাবে।
গ্রামবাসীদের দাবি, এই রাস্তাটি ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার পরিবার। স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ, বাজার করতে যাওয়া মহিলা— সকলেরই নিত্যদিনের যাতায়াত এই পথ দিয়েই। কিন্তু রাস্তার বর্তমান অবস্থায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক মানুষ পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, রাস্তা ভাঙার বিষয়টি একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের কোনও বাস্তব উদ্যোগ দেখা যায়নি। শুধু আশ্বাস মিলেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে এলাকাজুড়ে।
শুধু রাস্তার বেহাল দশাই নয়, গোটা গ্রামেই উন্নয়নের নামে অব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা। একাধিক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি বিপজ্জনকভাবে হেলে রয়েছে। যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, একটি পুকুরের গার্ডওয়াল তৈরির কাজ শুরু হলেও কয়েকটি বাঁশ পুঁতে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয়দের কটাক্ষ, কখনও বলা হচ্ছে বর্ষার জন্য কাজ বন্ধ, কখনও আবার অজুহাত দেওয়া হচ্ছে— “মাটি পাওয়া যাচ্ছে না!”
গ্রামের বড় মসজিদের পাশ দিয়েই এই ভাঙাচোরা ঢালাই রাস্তা। সন্ধ্যার সময় নামাজ পড়তে আসা একাধিক বয়স্ক মানুষ অন্ধকারে রাস্তার ফাটল বুঝতে না পেরে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন বলে দাবি। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
আর কয়েক মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আদৌ কি এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার হবে, নাকি ভোট শেষ হলেই আবার হাটসিউড়িকে ভুলে যাবে প্রশাসন— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে গ্রামবাসীদের মুখে মুখে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ‘উন্নয়ন’, ‘রাস্তাশ্রী’, ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের প্রচার চললেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে তাদের কপালে জুটেছে শুধু প্রতিশ্রুতি আর বঞ্চনা।
ভোটের মুখে সেই জমে থাকা ক্ষোভই এবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে দক্ষিণ হাটসিউড়িতে।